Breaking News
Home / জেলা সংবাদ / আজাদ প্রমাণ করেছে ইচ্ছা থাকলে সফল হওয়া যায়

আজাদ প্রমাণ করেছে ইচ্ছা থাকলে সফল হওয়া যায়

পলাশবাড়ী থেকে: পেঁপে চাষ করে সফল পলাশবাড়ীর আজাদ। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় ফল ও সবজি হিসেবে পেঁপে এখন বেশ জনপ্রিয়। শুধু পরিবারের চাহিদা মেটানোর জন্য একসময় বসতবাড়ির উঠানে চাষ করা হতো। সময়ের ব্যবধানে প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু হয়েছে পেঁপের। পলাশবাড়ী পৌরসভার সিধন গ্রামের ছামাদ মাস্টারের ছেলে আজাদ মন্ডল, মৃত ওমরের ছেলে আইয়ুব মিয়া, মৃত হায়দার আলীর ছেলে দুলা মিয়া, ওমরের ছেলে এমদাদুল মিয়াসহ বর্তমানে পেঁপে চাষে সফল।

৫ সেপ্টেম্বর রোববার সরেজমিনে তাদের বাগানে গিয়ে দেখা গেছে সারি সারি পেঁপে গাছ। প্রতিটি গাছে ঝুলে আছে অসংখ্য পেঁপে। বর্তমানে প্রতিনিয়ত পেঁপে তুলে বাজারে বিক্রি করছেন। সফল পেঁপে চাষী আব্দুস ছামাদ মাস্টারের ছেলে আজাদ জানান, ৫ বিঘা জমিতে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন। বর্তমানে সাড়ে ৩ লাখ টাকার পেঁপে এ পর্যন্ত বিক্রি করেছেন। প্রতিদিন তার বাগান থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, বগুড়া,রংপুর ও গাইবান্ধা সদরসহ দেশের দুর দুরান্ত থেকে পাইকেররা পাকা এবং কাঁচা পেঁপে ক্রয়ের আসে। এর পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে পিয়াজ ছিল। পিয়াজেরও বাম্পার ফলন হয়েছিল। তিনি আরও জানান,

উপজেলা কৃষি অফিস থেকে যদি সার্বিক সাহায্য সহযোগিতা পাওয়া যেত, তবে আমরা আরো সফলতা অর্জন করতে পারতাম। কিন্তু দুঃখের বিষয় তারা আমার পেঁপে বাগানে একটি দিনের জন‍্যও আসেনিত বটে মুখের বার্তা দিয়েও পরামর্শ পাইনি। বাপ দাদার শিখানো পদ্ধতি ও বিভিন্ন স্থানে দেখে আমি পেঁপে চাষ করেছি। আমি এ পর্যান্ত কৃষি অফিসের একটি প্রশিক্ষণও পাইনি, পাইনি কোন আর্থিক সহযোগীতাও। তবে আমি নিজ উদ্যোগে এ বছর আরও বেশ কিছু জমিতে পেঁপে চাষের চিন্তা ভাবনা করছি।
বর্তমানে পেঁপে চাষে আজাদ হয়ে উঠেছেন পলাশবাড়ী পৌরসভার একজন সফল চাষী। তার বাগানের পেঁপে আরো দুই বছরে প্রায় ২০ লাখ টাকায় বিক্রি করা যাবে বলে তিনি জানান। তার পেঁপে চাষ দেখে গ্রামের আরো অনেক কৃষক পেঁপে বাগান করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

চাষী জানায়, মাকড়সা ও ছত্রাক ছাড়া পেঁপে বাগানে তেমন কোনো সমস্যা দেখা যায় না। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে পুষ্টিমানসমৃদ্ধ পেঁপে চাষে ভাগ্য বদলে ফেলা যায়। পেঁপে চাষে অর্থনৈতিকভাবে সরকারি সহযোগিতা পেলে দেশের অনেক বেকার সমস্যা দূর করা সম্ভব হবে। তিনি মনে করেন, শিক্ষিত বেকার যুবকরা যদি পেঁপেসহ অন্যান্য চাষে অগ্রসর হয় তাহলে তারাও লাভবান হবে।
একই গ্রামের অনেক কৃষক জানান, আজাদ গ্রাজুয়েড ছেলে। সে হঠাৎ করেই জমিতে পেঁপে ও সাথী ফসল পিয়াজ চাষ শুরু করেন। তার চাষ দেখে আমাদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। তার পেঁপে চাষে সাফল্য দেখে গ্রামের অনেকেই পেঁপে চাষ করার পরিকল্পনা করছে।

একই গ্রামের ওমর আলির ছেলে আইয়ুব আলির জমিতে গিয়ে দেখা যায়, তিনি ২২ শতাংশ জমিতে পেঁপের চাষের সাথী ফসল হিসেবে আদার চাষ করেছেন। পেঁপে এবং আদা দুই ফসলের ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। এ গ্রামের পেঁপে চাষী আজাদসহ আইয়ুব, দুলা মিয়া, এমদাদুল বলেন, আমাদের বাগানের পেঁপের চাহিদা ভালো থাকায় বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা ছুটে আসছেন। এখান থেকে ১২’শ টাকা দরে (৪০ কেজি) পেঁপে কিনে বগুড়া, রংপুরসহ ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ফাতেমা-কে মুঠো ফোনে পেঁপে চাষের ও কৃষি অফিসের কোন সহযোগীতা পায়নি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, আমি নতুন এসেছি। তবে বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি।

About parinews

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*