Breaking News
Home / জেলা সংবাদ / গাইবান্ধায় জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস পালন

গাইবান্ধায় জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস পালন

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গুনগত পরিসংখ্যান উন্নত জীবনের সোপান শ্লোগাণে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস উপলক্ষে গাইবান্ধায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বিকেলে গাইবান্ধা জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের আয়োজনে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সহযোগিতা করে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন।

সাদুল্লাপুর উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সাদেকুর রহমান। আলোচনা সভায় মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে পরিসংখ্যান বিভাগের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন গাইবান্ধা জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. এনামুল হক। সভায় বক্তব্য রাখেন সহকারী পুলিশ সুপার মো. আজমল হোসেন, গাইবান্ধা পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো. শহীদ আহম্মেদ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফয়সাল আজম, গাইবান্ধা প্রেস ক্লাবের সভাপতি কে এম রেজাউল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা গৌতম চন্দ্র মোদক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জরিপের সময় নাগরিকরা অনেক সময় তথ্য কম বা বেশি প্রদান করে থাকেন, যা মোটেও সঠিক নয়। জরিপের সময় তথ্য গ্রহনকারীকে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য প্রদান করতে হবে। এসব তথ্য দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহার করা হয়। এ সংক্রান্ত লিফলেট বিতরণ করার কথা বলা হয়। সেই সাথে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসেবে, পরিসংখ্যান আইন ২০১৩ অনুযায়ী সকল নাগরিকের একটি সমন্বিত ডাটাবেইজ ‘ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্টার (এনপিআর)’ প্রণয়ন করা হবে। বিবিএসের জরিপে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিতসহ বিবিএসর সকল জরিপের সংগৃহীত তথ্য দ্রæত প্রক্রিয়াকরণ করে প্রকাশের ব্যবস্থা করা হবে। পরিসংখ্যান বিষয়ে দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির লক্ষে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একটি জাতীয় পরিসংখ্যান প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিবিএসের নিজস্ব অফিস ভবন ও ডাটা প্রসেসিং সেন্টার স্থাপন এবং জনবল কাঠামো পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে ইউনিয়ন, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার ওয়ার্ড পর্যায়ে একজন করে তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহনের কথা বলা হয় আলোচনা সভায়।
আলোচনা সভায় আরও বলা হয়, জাতীয় পর্যায়ের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ জেলার উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে। গাইবান্ধা জেলায় ২০০১ সালে শিক্ষার হার ছিল ৩৫.৭ শতাংশ। ২০২০ সালে এসে তা দাঁড়িয়েছে ৭০ শতাংশে। এতে করে বোঝা যাচ্ছে, প্রতি বছর শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক বছরের নিচে শিশু মৃত্যু হার (প্রতি হাজার জীবিত জন্ম) অনেক কমে গেছে। যা ২০১৪ সালে ছিল ৬৬ জন ও ২০২০ সালে ১৯ জন। সেই সাথে পাঁচ বছরের নিচে শিশু মৃত্যু হার (প্রতি হাজার জীবিত জন্ম) ২০১৪ সালে ছিল ৮৭ জন ও ২০২০ সালে এসে তা দাঁড়িয়েছে ৩৬ জনে। প্রতিবন্ধিতার শতকরা হার ২০১৪ সালে যেখানে ছিল ১৩.৪ শতাংশ। ২০২০ সালে এসে তা দাঁড়িয়েছে ৯.৭ শতাংশে। ২০১৪ সালে পুরুষের বিয়ের গড় বয়স ছিল ২৪ বছর ও নারীর ১৬.৮ বছর। ২০২০ সালে পুরুষের বিয়ের গড় বয়স ছিল ২২.৮ বছর ও নারীর ১৭.৬ বছর। চাল উৎপাদনে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ছিল সাত লাখ ৭৪ হাজার ৬৮৬ মেট্রিক টন ও ২০২০-২১ অর্থ বছরে তা এসে দাঁড়িয়েছে আট লাখ ৮৪ হাজার ৭১৭ মেট্রিক টনে। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে আলু উৎপাদন ছিল এক লাখ ১৪ হাজার ১২৫ মেট্রিক টন ও ২০২০-২১ অর্থ বছরে তা এসে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৬০ হাজার ৬৯০ মেট্রিক টনে।

About parinews

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*