Breaking News
Home / জেলা সংবাদ / পলাশবাড়ীতে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে লাইসেন্স বিহীন ছ’মিল 

পলাশবাড়ীতে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে লাইসেন্স বিহীন ছ’মিল 

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধাঃগাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে অবৈধ ছ’মিল। আর এ সকল অধিকাংশ ছ’মিলের নেই কোন বৈধ লাইসেন্স। ফলে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের উপর এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে। সে সঙ্গে উজাড় হচ্ছে পরিবেশ বন্ধু গাছ এবং সরকারও মোটা অংকের রাজস্ব থেকে হচ্ছে বঞ্চিত। এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বন ও পরিবেশ বিভাগের তদারকি ও যথাযথ পদক্ষেপের অভাবে।
এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, পলাশবাড়ী উপজেলার পৌরশহরসহ ৮টি ইউনিয়নের হাট বাজার ও প্রত্যন্ত এলাকায় সব মিলে প্রায় অর্ধ শতাধিকের বেশি ছ’মিল রয়েছে। বেশীর ভাগ ছ-মিল স্থাপিত হয়েছে, উপজেলার পৌরশহর, কিশোরগাড়ী, হোসেনপুর, বরিশাল, মহদীপুর, বেতকাপা, পবনাপুর, মনোহরপুর, হরিনাথপুর সহ বিভিন্ন হাট বাজার সংলগ্ন এলাকায়।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সুত্রে জানা গেছে, ছ’মিল স্থাপনের ক্ষেত্রে বিধিতে বলা হয়েছে সরকারি অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বিনোদন পার্ক, উদ্যান ও জনস্বাস্থ্য বা পরিবেশের জন্য গুরুত্বপুর্ন কোনো স্থানের ২০০ মিটারের মধ্যে এবং সরকারী বনভুমির সীমানা হতে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে ছ’মিল স্থাপন করা যাবে না। এ ছাড়া সকাল ৬টার পুর্বে এবং সন্ধা ৬টার পরে ছ-মিল চালানো যাবেনা এবং ছ’মিল চালানোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত ফি প্রদান সাপেক্ষে লাইসেন্স গ্রহন বাধ্যতামুলক করা হয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, পলাশবাড়ীতে ছ’মিল চালানোর ক্ষেত্রে সরকারী সকল বিধি নিষেধ উপেক্ষিত হয়ে পড়েছে । বন ও পরিবেশ বিভাগের তদারকির অভাবে মহাসড়কের পাশে, আবাসিক স্থান, বাণিজ্যিক এলাকা, বিনোদন কেন্দ্র এলাকাতেও স্থাপিত হয়েছে এসব ছ’মিল। আর প্রতিনিয়ত এসব ছ’মিল গুলোতে অবাধে চলছে কাঠ কর্তন।
এদিকে নিয়ম বহির্ভুত যত্রতত্র এ সব ছ’মিল স্থাপনের কারনে বিভিন্ন স্থানে রাস্তার উপর কাঠের গুড়ি রাখা হচ্ছে এতে জনসাধারনের চলাচলের অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে। রাস্তার পাশে ও আবাসিক স্থানের ছ’মিল গুলো থেকে কাঠের গুড়ো উড়ে এসে আবাসস্থলে ঢুকে পড়ছে এবং পথচারীদের চোখে পড়ছে। এছাড়া সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার আগে-পরে ছ’মিল চালানো নিষেধ থাকলেও তা মানছেন না ছ’মিল মালিকরা। গভীর রাত পর্যন্ত এসব মিলে কাঠ কর্তন হচ্ছে। কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এসব কলে অবৈধভাবে চোরাই কাঠও কাটা হচ্ছে। এতে শব্দদূষণসহ পরিবেশের মারাত্বক ক্ষতি হচ্ছে। হুমকিতে পড়েছে জনস্বাস্থ্য।
সার্বিক এ পরিস্থিতিতে জনমনেও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও লাইসেন্স ছাড়া কি ভাবে চলে এসব ছ’মিল? আর বিদ্যুত সংযোগই বা পায় কি ভাবে? লাইসেন্স না থাকার ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক’জন ছ’মিল মালিকের সঙ্গে কথা হলে তারা তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেন লাইসেন্স ছাড়াই তো চলছে। লাইসেন্স করার দরকার কি?
পলাশবাড়ী উপজেলার এক বন কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, আমার জানা মতে পলাশবাড়ীতে কোন ছ’মিলের বৈধ লাইসেন্স নেই। উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে শৗঘ্রই ছ’মিল গুলোর ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে গাইবান্ধা জেলা বন কর্মকর্তার মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, খুব শীঘ্রই অবৈধ ছ’মিলের ব্যাপারে অভিযান চালানো হবে।

About parinews

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*