Breaking News
Home / জেলা সংবাদ / পলাশবাড়ীর বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুলের চিকিৎসা অর্থের অভাবে বন্ধ

পলাশবাড়ীর বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুলের চিকিৎসা অর্থের অভাবে বন্ধ

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধাঃ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিনা পয়সায় সব চিকিৎসা সুবিধা দেয়ার সরকারি নির্দেশনা ভঙ্গ করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রমেক) মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে প্লাটুন কমান্ডার হিসেবে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম মণ্ডল (৬৮) অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেছে। হাসপাতাল থেকে কোন ওষুধ সরবরাহ না করে বাইরে থেকে ইনজেকশনসহ ওষুধ কিনে আনতে বাধ্য করেছে রমেক কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকরা। খ্যাতিমান এই মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ি উপজেলার সাতারপাড়া গ্রামে। ৫ দিন ধরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৭ নম্বর নিউরোমেডিসিন বিভাগে বিনা চিকিৎসায় পড়ে আছেন তিনি।
গতকাল বিকেলে সরেজমিন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি জানান, গত ৫ দিন ধরে ভর্তি থাকলেও হাসপাতালের পরিচালক ডা. রেজাউল করিম এবং নিউরোমেডিসিন বিভাগের কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তাকে দেখতে আসেনি। গত ১২ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৮টায় ভর্তি হবার পর ইন্টার্ন ডাক্তার এসে একটি ইনকেশন ও চার ধরনের ওষুধ প্রেসক্রাইব করে গেছেন। এরপর শুধু ইন্টার্ন ডাক্তার ছাড়া আর কেউ আসেনি।
তিনি অভিযোগ করেন, সলিপ্রেড নামে যে ইনজেকশন প্রতিদিন দিতে বলা হয়েছে তার একটি ইনজেকশনের দাম ১৪শ’ টাকা। এছাড়া চার ধরনের ট্যাবলেটসহ প্রতিদিন তার দুই হাজার টাকার ওষুধ লাগে। হাসপাতাল থেকে কোন ইনজেকশন তো দূরের কথা কোন ট্যাবলেটও সরবরাহ করা হয়নি।
২/৩ দিন ধার–দেনা করে ওষুধ কিনেছেন কিন্তু গতকাল থেকে ইনজেকশনসহ ওষুধ কেনার টাকা জোগাড় করতে পারেননি। ফলে তার চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, অনেকবার আকুতি–মিনতি করলেও কোন পদক্ষেপ নেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অথচ বীরমুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার জন্য দেশের অন্যান্য হাসপাতালের মতো রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিনা পয়সায় চিকিৎসা প্রয়োজনীয় সব ওষুধ সরবরাহ করার প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ থাকলেও হাসপাতালের পরিচালকের দায়িত্বহীনতা আর সেচ্ছাচারিতার জন্য কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না।
বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, আমার শরীরে প্রচণ্ড ব্যাথা, সারাশরীরে মনে হয় বিদ্যুতায়িত হয়ে গেছে তাই আমি উঠে বসতে এবং হাঁটতে পারছি না। তিনি প্রশ্ন রাখেন, অর্থের অভাবে তার কী চিকিৎসা হবে না?।
এদিকে বীরমুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলামের ছেলে কামরুল হাসান মণ্ডল অভিযোগ করেন, গত ১২ এপ্রিল ভর্তি হবার পর পরই হাসপাতালে পেয়িং বেড অথবা কেবিন দেবার জন্য লিখিত আবেদন করি। ওই আবেদনে সহকারী রেজিস্ট্রার সুপারিশ করে দেন। কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে জানান কেবিন একটি খালি আছে কিন্তু ৪ দিন অতিবাহিত হবার পরও কেবিন দেয়া হয়নি। এখন জেনারেল ওয়ার্ডে অমানবিকভাবে অবস্থান করছে আমার বাবা।
ওয়ার্ডের টয়লেটের অবস্থা খুবই নাজুক, সেখানে যাওয়া যায় না। বীরমুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলামের ছোট ছেলের স্ত্রী মরিয়ম বেগম অভিযোগ করেন, হাসপাতালে খাবারের মান খুবই নিম্নমানের। সকালে এক পিস চিকন পাউরুটি একটি ডিম ও সাগর কলা দেয়া হয়। ডিম বেশির ভাগ খারাপ, রুটিগুলো গন্ধে খাওয়া যায় না। দুপুরে ভাতের ও একই অবস্থা।
চিকিৎসাধীন মুক্তিযোদ্ধা আরও অভিযোগ করেন, ওয়ার্ডে নার্সদের আচরণ ও সেবা দেয়ার নামে তাদের কর্মকাণ্ড এতই অসহনীয় যা বলার অপেক্ষা রাখে না।
অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেছে অভিযোগ করে বলেন, এর কি প্রতিকার নেই। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ওয়ার্ডে অবস্থান করে কোন ইন্টার্ন চিকিৎসক নার্স বা কাউকে দেখা গেল না।
সার্বিক বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডা. রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্বীকার করেন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সব চিকিৎসার দায়িত্ব হাসপাতালের। ৪ দিন ধরে কেন ব্যবস্থা নেয়া হলো না জানতে চাইলে কোন সদত্তোর দিতে পারেননি তিনি।

About parinews

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*