Breaking News
Home / জেলা সংবাদ / ফুলছড়িতে চুরির ঘটনা বাড়ায় জনসাধারণ উদ্বিগ্ন

ফুলছড়িতে চুরির ঘটনা বাড়ায় জনসাধারণ উদ্বিগ্ন

ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার দু’টি মোটরসাইকেল, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকারসহ গত তিন সপ্তাহে পরপর ২০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে দূধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরের উৎপাত বাড়ায় উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী। উপজেলা মাসিক সমন্বয় কমিটিতে চুরি বন্ধ করতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় চেয়ারম্যানদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার মধ্যরাতে উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের বাসিন্দা দৈনিক আমাদের সময়ের ফুলছড়ি উপজেলা প্রতিনিধি রাজু সরকারের ঘরের বারান্দার গ্রিল কেটে ১টি পালসার মোটরসাইকেল নিয়ে সটকে পরে চোরের দল। গত সোমবার উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাবিবুর রহমানের মোটর সাইকেলটি চুরি হয়।
এদিকে গত ১৪ মে’র পর থেকে কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের বালাসীঘাটে একটি মুদি দোকান, হোসেনপুর গ্রামের সুরুজ আলীর একমাত্র সম্বল একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা, চন্দিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ১৩টি সেচ পাম্প, রেলগেট এলাকার নুরুল আমিনের একটি গরু সহ বাড়ির বিভিন্ন মালামাল, একাডেমি বাজারের রানু কসমেটিকসের তালা ভেঙ্গে নগদ প্রায় ৪৫ হাজার টাকা এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরণের দামি কসমেটিকস চুরি হয়। এছাড়া থানা সংলগ্ন নাপিতের হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিউবওয়েল চুরির ঘটনা ঘটেছে। ২৪ মে রাতে উপজেলার উদাখালী ইউনিয়নের কর্তিকুড়া এলাকায় একটি মুদি দোকানে মালামাল চুরির সময় জনতা হাতে-নাতে দুই চোরকে আটক করে। পরে তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। তাদের কাছ থেকে পুলিশ তালা কাটার মেশিন, প্লাসসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি জব্দ করে।
সংবাদকর্মী রাজু সরকার বলেন, ‘আমি বিশেষ কাজে ঢাকায় অবস্থান করায় বাড়িতে না থাকার সুবাদে চোর বারান্দার গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে। এসময় ঘরে থাকা ৩টি মোটর সাইকেলের মধ্যে আমার ব্যবহৃত পালসার গাড়িটি চুরি করে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, বেশ কিছুদিন থেকে ফুলছড়িতে চোরের উপদ্রুপ বেড়ে গেছে।’ রানু কসমেটিকসের মালিক রানু সরকার বলেন, ‘খুব কষ্ট করে দোকানটি সাজিয়ে ছিলাম। কিন্তু চোর আমার সর্বনাশ করে গেছে। শুধু আমার না এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গবাদিপশু, টাকা ও স্বর্ণালংকার সহ চুরি ঘটনা বেড়ে গেছে। আমরা ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘কঞ্চিপাড়া ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়ের পাশে কমিউনিটি ক্লিনিকের পিছনে প্রতিদিন নেশাখোরদের আড্ডা বসে। নেশার টাকা যোগাড় করতে না পেরে তারাই হয়তো এসব চুরির ঘটনা ঘটাচ্ছেন। ভূক্তভোগীদের অভিযোগ, থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ দিয়েও কাজ হয় না।’
ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাওছার আলী বলেন, ‘চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনায় অধিকাংশ লোক অভিযোগ করেন না। সম্প্রতি কর্তিকুড়া এলাকায় দোকান চুরির সময় স্থানীয় লোকজন দুই চোরকে আটক করে। পরে পুলিশে সোপর্দ করলে তাদের কাছ থেকে তালা কাটার মেশিন, প্লাসসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়। এ সংক্রান্ত একটি মামলা হয়েছে। পুলিশি টহল জোরদারসহ গ্রাম পুলিশদের পাহাড়ার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, মাসিক সমন্বয় সভায় চুরিসহ আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঘটনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার পর পুলিশকে নজরদারি বৃদ্ধির জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট সব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নিজ নিজ এলাকায় চুরির ঘটনা রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

About parinews

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*