Breaking News
Home / জেলা সংবাদ / ফুলছড়িতে ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বৃদ্ধি কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক ভাঙন

ফুলছড়িতে ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বৃদ্ধি কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক ভাঙন

ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: স্থানীয়ভাবে টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। দ্রুতগতিতে পানি বৃদ্ধির কারণে ইতিমধ্যে নদের তীরবর্তী নিম্না ল প্লাবিত হয়েছে। এতে নদের স্রোতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বেশ কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে।
প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ফুলছড়ি উপজেলার সাত ইউনিয়নেই বন্যা ও নদী ভাঙন দেখা দেয়। নদী ভাঙনে সর্বহারা হয় নদী পাড়ের শত শত পরিবার। নদী পাড়ের বাসিন্দাদের প্রকৃতির সাথে লড়াই করে টিকে থাকতে হয়। এবছরেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। গত কয়েকদিনের টানা প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারেও ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনের ফলে নদীগর্ভে বিলিন হচ্ছে বাড়ি-ঘর, গাছপালা ও আবাদী জমি। সবচেয়ে বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে, উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের কটিয়ারভিটা, ভুষিরভিটা, দাড়িয়ারভিটা ও এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের জিগাবাড়ী, সন্ন্যাসীর চর, আনন্দবাড়ী, চর চৌমহন, ধলী পাটাধোয়া গ্রামে। এসব এলাকায় এরই মধ্যে দুই শতাধিক পরিবার ভাঙনের শিকার হয়ে তাদের বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন। ভাঙনে হুমকিতে রয়েছে, উড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিন কাবিলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর-কালাসোনা সরকারি প্রাথমিক, দাড়িয়ারভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আশপাশের এলাকার বহু ঘর-বাড়ি ও ফসলি জমি।
সরেজমিনে উড়িয়া ইউনিয়নের কটিয়ারভিটা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, এ এলাকায় ভাঙনের গতি বেড়ে গেছে। ভাঙন এলাকার লোকজনের মাঝে দুশ্চিন্তা বিরাজ করছে। বাড়ি ঘর ভেঙে ও গাছপালা কেটে নিয়ে এলাকা ছাড়ছেন নদী পাড়ের মানুষ। ভাঙনের মুখে থাকা দাড়িয়ারভিটা গ্রামের আনোয়ারা বেগম (৪৬) বলেন, ‘বর্ষার শুরুতে যেভাবে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে, তাতে এবছর আর নিজের বসতভিটায় থাকা হবে না। রাতে ঘুম ধরে না, ভাঙনের আতঙ্কে থাকতে হয়। পরিবার পরিজন নিয়ে অন্য কোথাও যাওয়ার তেমন জায়গা নেই, খুবই দুশ্চিন্তা হচ্ছে।’ প্রায় একই ধরণের কথা বললেন, ওই গ্রামের আব্দুল আজিজ, শামছুল আলম, আবু বক্কর, জাহিদুল ইসলাম ও ছকু মিয়া সহ অনেকে।
উড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা কামাল পাশা বলেন, ‘নদী ভাঙন এ এলাকার মানুষের প্রধান সমস্যা। প্রতিবছর ভাঙনে অনেক পরিবার তাদের বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে ফেলেন। তাই ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করা জরুরী হয়ে পড়েছে।’
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভাগীয় উপ-প্রকৌশলী মজিবর রহমান বলেন, ‘নদী ভাঙনরোধে উড়িয়ার কটিয়ারভিটা থেকে ভূষিরভিটা পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ৬৫০ মিটার এলাকায় ৬৫ হাজার বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। প্রকল্প এলাকা ভাঙনমুক্ত হলেও আশেপাশের কিছু এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

About parinews

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*