Breaking News
Home / জাতীয় / বাংলাদেশি তরুণীকে মরিশাসে বর্বর নিপীড়নের ভয়াবহ কাহিনি

বাংলাদেশি তরুণীকে মরিশাসে বর্বর নিপীড়নের ভয়াবহ কাহিনি

ফাইল ছবি

পরিবর্তন ডেস্ক

নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকার কামাল মিয়া (ছদ্মনাম) তার বন্ধুর মাধ্যমে মরিশাস যাওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি রাজধানীর রামপুরা এলাকার মেসার্স গোলাম রাব্বী ইন্টারন্যাশনালে (আর.এল.১০৭৮) কিছু টাকা ও পাসপোর্ট জমা দেন। বেশ কিছুদিন তাকে ঘোরানোর পরও তিনি মরিশাস যেতে পারেননি। এক পর্যায়ে কামালের মেয়ে শান্তাকে (ছদ্মনাম) মাত্র ৯০ হাজার টাকায় মাসে ২৮ হাজার টাকা বেতনে মরিশাস নেওয়ার প্রস্তাব দেন ট্রাভেল এজেন্সির মালিক আক্তার হোসেন। প্রথমে রাজি না হলেও পরে টাকা কম ও ভালো বেতন দেখে রাজি হয় কামালের পরিবার।

মরিশাস যাওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যেই বাংলাদেশি কর্মকর্তা ও দালাল শাহ আলমের সহযোগিতায় মরিশাসে ফায়ারমাউন্ট টেক্সটাইল নামক তৈরি পোশাক কারখানার মালিক অনিল কোহলি কৌশলে শান্তাকে অচেতন করে শ্লীলতাহানি করে। যার ভিডিও ধারণ করে ব্লাকমেল করে দফায় দফায় ধর্ষণ করায় শান্তা গর্ভবতী হয়ে পড়ে। অবৈধ ক্লিনিকে নিয়ে তার গর্ভপাত করানো হয়। দালাল শাহ আলম তার নিজ বাসায় নিয়ে শান্তাকে দিনের পর দিন নির্যাতন ও ধর্ষণ করে। আরও ধর্ষণ করে তার দুই ভাগ্নে। এক পর্যায়ে শান্তাকে প্রস্তাব দেওয়া হয় অনিল কোহলির বন্ধুদের সঙ্গে গ্রুপ সেক্স করার। এভাবে প্রায় এক বছর নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরে আসেন শান্তা। দেশে আসার আগে শাহ আলম ও অনিল কোহলি কৌশলে শান্তার বাবাকে নিয়ে যান মরিশাসে। কামালকে সেখানে জিম্মি করে ভয়াবহ নির্যাতন করে আবার শান্তাকে সেখানে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে তারা।

শান্তা যাতে তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা না নেয় সেজন্য হুমকি-ধমকি ছাড়াও তার বাবার ওপরও চালানো হয় ভয়াবহ নির্যাতন। শান্তা ও তার বাবার ওপর ভয়ানক নির্যাতনের কাহিনি বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ প্রতিদিনের কাছে নিজেই বর্ণনা করেন শান্তা। তিনি বলেন, ‘আমি খুবই দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। আমরা দুই বোন এক ভাই। আমার ভাই বয়সে খুবই ছোট। বাবার বয়স প্রায় ৫৪। আমি মাত্র পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করার পর অর্থের অভাবে আর পড়া হয়নি। বাবা মরিশাস যাওয়ার জন্য রামপুরার গোলাম রাব্বী ইন্টারন্যাশনালে ২০১৮ সালে পাসপোর্ট ও টাকা জমা দেন।দীর্ঘদিন পাসপোর্ট আটকে রেখেও তারা বাবাকে মরিশাস নিতে পারেনি।

একদিন এজেন্সির মালিক আক্তার হোসেন নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় আমাদের বাসায় যায় এবং আমাকে দেখে। পরে আমার বাবাকে বলে আপনার মেয়েটা উপযুক্ত এবং কর্মক্ষম। কম খরচে গার্মেন্টে মেশিন অপারেটরের ভিসায় মরিশাস পাঠানো যাবে। আরও অনেক মেয়ে বাংলাদেশ থেকে সেখানে যাচ্ছে। আমার বাবা শুরুতে রাজি হননি। পরে আমি ভাবলাম অভাবের সংসারে আমি গার্মেন্টে কাজ করে যদি একটু সচ্ছলতা ফেরাতে পারি। তাদের প্রস্তাব মতো আমি ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ করে মাসে ২৮ হাজার টাকা বেতনে মরিশাস যাই। যাওয়ার আগে মেসার্স আক্তার অ্যান্ড সন্স নামে রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মাধ্যমে ছাড়পত্র নেওয়া হয়। ওই গ্রুপে আমার সঙ্গে ২৬ জন বাংলাদেশি নারী ছিল।

যাদের মধ্যে আমি ছাড়া সবাই ছিল বিবাহিত। আমরা মরিশাস যাওয়ার পর ফায়ারমাউন্ট টেক্সটাইল কোম্পানিতে আমাকে হেলপার হিসেবে কাজ দেওয়া হয়। ফায়ারমাউন্ট টেক্সটাইল কারখানার কর্মচারীদের ক্যান্টিন পরিচালনা করত ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া থানার চম্পাকনগর গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ শাহ আলম। তার সহযোগী ও ভাগ্নে পরিচয় দিত ফোরকান, সিদ্দিক ও আসলাম। কাজ শুরুর কয়েক দিন পর ক্যান্টিনের বাবুর্চি আসলাম আমাকে বলে, ‘কারখানার বস তোমাকে দেখেছেন এবং পছন্দ করেছেন।’ আমি শুরুতে বিষয়টি বুঝতে পারিনি।

এক পর্যায়ে শাহ আলম আমাকে বসের সঙ্গে খারাপ সম্পর্ক করার প্রস্তাব দেয়। আমি রাজি হইনি। এই অবস্থায় কারখানার পাঞ্জাবি বংশোদ্ভূত মালিক অনিল কোহলি আমার ফোন নম্বর সংগ্রহ করে আমার সঙ্গে কথা বলেন এবং তার বাসায় যেতে বলেন। অনিল যুক্তরাজ্য ও মরিশাসেরও নাগরিক। আমি তার কুপ্রস্তাবে রাজি হইনি। এই অবস্থায় কারখানা ও ক্যান্টিনের কর্মচারীরা আমাকে এড়িয়ে চলতে থাকে। আমার কাজে নানাভাবে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। অযথা বকাঝকা, সবার সামনে অপমান করা, শুধু শুধু ভুল ধরা নানাভাবে আমাকে হেনস্থা করতে থাকে। আমার সহকর্মীরা পরামর্শ দেয় শাহ আলম বসের ‘ডানহাত’; তার সঙ্গে কথা বলো। 

About parinews