Breaking News
Home / জেলা সংবাদ / মাছ চাষ করে সফল হইছেন পলাশবাড়ী মৎসলীগ নেতা আনিছুর

মাছ চাষ করে সফল হইছেন পলাশবাড়ী মৎসলীগ নেতা আনিছুর

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধাঃ  গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজলোয় অনেক বেকার ও অসহায় মানুষের ভাগ্য বদলে গেছে শুধু মাছ চাষকে কেন্দ্র করে। তারা সবাই এখন সচ্ছল জীবনযাপন করছেন। তাদের দেখে প্রতিনিয়ত কেউ না কেউ মাছ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। তারাও হচ্ছেন সফল।
তেমনি একটি এলাকা পলাশবাড়ীর বাহিরডাঙ্গা বিল। এ এলাকার বহু মানুষ এখন মাছ চাষের সাথে জড়িত। কথা হয় ওই এলাকার পুরোনো মাছচাষি মো. আনিছুররে  সাথে। তিনি প্রথমে ছোট আকারের পুকুরে মাছ চাষ করলেও এখন চার একর জায়গায় উপর মোট ৪০ বিঘা জমির উপর তার মাছ চাষ। আরও একটি পুকুর বাড়ানোর কাজ চলমান।
তিনি বলেন, মাছ চাষ করে এখন আমি লাভবান। প্রথমে যখন মাছ চাষে সম্পৃক্ত হওয়ার কথা ভাবছিলাম তখন ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। যদি কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হই, তাহলে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারব কিনা সন্দিহান ছিলাম। কিন্তু ভয়কে দূর করে ছোট আকারে একটি পুকুর খনন করে বাংলা মাছের চাষ করা শুরু করি। প্রথম বছরই আশার আলো দেখি। দিন দিন সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে লাভবান হতে থাকি। তখন ফিশারির সংখ্যা বৃদ্ধি করার সাথে সাথে মাছের সংখ্যা বৃদ্ধি করি। বর্তমানে আমি মাছ চাষ করে সফল।
তাদের মতো সফলদের অনুকরণ করে এলাকার অনেকে একই ব্যবসা শুরু করেন। তেমনি একজন লতিফ।তিনি প্রথমে ধানের ব্যবসা দিয়ে আর্থিক সচ্ছলতার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু সেখানে তিনি বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতায় লাভের মুখ দেখতে পারেননি। কিন্তু তিনি দেখেন তার চোখের সামনেই অনেকে মাছ চাষ করে সফলতা অর্জন করেন। তখনই এলাকার সফল মাছ চাষিদের সাথে পরামর্শ করে মাছ চাষের সাথে সম্পৃক্ত হন।তিনি বলেন, শুরুটা ছোট পরিসরে হলেও এখন তা বৃদ্ধি করে ৬ একর জায়গার ওপর ১২টি ফিশারি করেছি। লাভ না হলে এতগুলো ফিশারি করা সম্ভব ছিল না। তিনি জানান, বছরে তার ৭-৮ লাখ টাকা আয় হয় মাছ চাষ থেকেই।
একেবারেই নতুন মাছচাষি মশিউর। বয়স ২৫ বছর। শুধু কৃষিকাজ করে তার সংসার চলছিল। তিনি চিন্তা করেন কিছু একটা করে সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে হবে। তার মনে প্রচন্ড সাহস ছিল।
তিনি বলেন, আমাদের এলাকার আনিছুরকে দেখে উৎসাহ পেয়েছি। সফল মাছচাষি আনিছুর এ এলাকার নতুন মাছি চাষিদের কাছে অনুপ্রেরণার পাত্র।
মাছ চাষের কাজের সাথে সম্পৃক্ত করেকজন শ্রমিক কালাম জানান, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এখানে কাজ করি। কেউ ৯ হাজার টাকা আবার কেউ ১০ হাজার টাকা বেতন পাই। এ টাকা দিয়েই আমাদের সংসার চালাই।
সফল মাছচাষি বাহিরডাঙ্গা বিলের পরিচালক মো. আনিছুর রহমান। পলাশবাড়ী পৌর শহড়ের জগতজানী গ্রামের বাদশা মিয়ার পুত্র আনিছুর। আনিছুর রহমান পড়াশোনা বেশি করতে পাড়েনি। 
বর্তমানে ১৫-১৭ একর জায়গায় তাদের ২০-২২ টারও পুকুর রয়েছে। পরিবারের সবাই মিলে ফিশারি দেখাশোনা করেন। তার এখানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন ১০-১২ জন শ্রমিক।
আনিছুর রহমান জানান, মাছ চাষের সময়টা ভালোই যাচ্ছিল। হঠাৎ করে করোনার মহামারি মাছ চাষে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। একদিকে কিছু মাছের খাদ্যের দাম বিভিন্ন কোম্পানি বাড়িয়েছে।
অন্যদিকে লকডাউনের সময় মাছ ঠিকমতো পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও সমস্যা হয়েছিল। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আমার পুকুরের মাছ আর পোনা যায়। 
তিনি বলেন, মাছ চাষ একটি লাভজনক ব্যবসা আমি শিং, মাগুর, টেংরা, গুলসা, সিলবার, রুই, কাতলা, মৃগেল,কই, তেলাপিয়া ও সরপুঁটিসহ সব ধরনের বাংলা মাছ চাষ করে লাভবান হয়েছি। আগ্রহী নতুন এবং শিক্ষিত বেকার যুবকদের মাছ চাষে যোগ দিতেও গুরুত্ব দেন তিনি।
জানা যায়,বাংলাদেশের ৫৬ শতাংশ মাছ আসছে পুকুর থেকে। পুকুরে মাছ চাষের কারণে গত তিন দশকে মোট উৎপাদন বেড়েছে ছয় গুণ। মাছ চাষ ও ব্যবসায় দুই কোটির কাছাকাছি মানুষ যুক্ত আছেন।চাকরির পেছনে না ছুটে নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য শুরু করেন মাছ চাষ। ২০১৮ সালে মাত্র ২ লাখ টাকা পুঁজিসহ ৩টি পুকুর লিজ নিয়ে শুরু হয় তার পথচলা। এরপর তার আর পেছনে তাকাতে হয়নি। ব্যবসায়িকভাবে সে এখন পলাশবাড়ী বড় ব্যবসায়ীদের তালিকায়।শনিবার সরেজমিন তার মৎস্য খামারে গিয়ে দেখা যায়, তার পুকুরে মাছের খাবার দেওয়ার দিচ্ছেন। সাতে বন্ধু লতিফ, ইব্রাহিম, শরিফুল জানান, প্রথমে ৩ বিঘার ৩টি পুকুর ছিল। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় তাদের মোট ৪০/৪২ বিঘার ১৫টি পুকুর রয়েছে। রুই, কাতলা, মৃগেল, জাপানি, তেলাপিয়া, দেশি মাগুর, শিং, চিতল, পাঙাশ, টেংড়াসহ বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা হ্যাচারি থেকে সংগ্রহ করে পুকুরে চাষ করে বড় করা হয়। এসব মাছ চাষে পুকুরে প্রতিদিন নিয়মিত খাবার দিতে হয়। প্রতি বছর মার্চ মাসের শুরুতে পুকুরে মাছের পোনা ছেড়ে দেওয়ার পর ১০ মাস ধরে মাছগুলো খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়ে বড় করে ডিসেম্বর মাস থেকে দেশের বিভিন্ন হাটবাজারে ট্রাকযোগে বিক্রি করা হয়।
তারা আরও জানান, তাদের পুকুরে প্রতিবছর এক হেক্টরে ১২.৯ টন মাছ উৎপাদন হয়। মাছ চাষ করে একদিকে তারা যেমন নিজেরা স্বাবলম্বী হয়েছেন, অপরদিকে তাদের এই সফলতা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, তারা মাছ চাষে সফলতা অর্জন করেছে। এ বছর জাতীয় পুরস্কার নেওয়ার জন্য আনিছুরের আবেদন করেছেন। সরকারিভাবে তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়।আনিছুর বেকার থাকায় বেশি সময় রাজনীতিতে দিয়েছেন সে কারনে আপনজন স্বজন ও পরিবারের লােকরো তাকে দখেতে পতে না। সে এখন রাজনৈতিক ভাবে মৎলীগ কমিটির উপজেলার সাধারন সম্পাদক হিসাবে দায়ীত্বে আছনে।

About parinews

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*