Breaking News
Home / জেলা সংবাদ / রাজমিস্ত্রির যোগালি কাজ করে কলেজে পড়ছে গৌতম

রাজমিস্ত্রির যোগালি কাজ করে কলেজে পড়ছে গৌতম

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধাঃ গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে এইচএসসি মানবিক বিভাগের ১ম বর্ষের ছাত্র গৌতম কুমার বর্মন। স্বপ্ন তার পড়ালেখা শেষ করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার। কিন্তু অর্থের অভাব তার স্বপ্ন পুরাণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। 
উপজেলার ৮ নং ভাতগ্রাম ইউনিয়নের দিনমজুর বাবা-মা’র সংসারে দুই ভাই বোনের মধ্যে গৌতম বড়। ছোট বোন ভাতগ্রাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। টাকার অভাবে শেষ পর্যন্ত উচ্চ শিক্ষার দ্বারপ্রান্ত থেকেই তাকে ফিরে আসতে হয় কিনা সেই শঙ্কা জেঁকে বসেছে গৌতমের মনে।
 আলাপকালে কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে সেই শঙ্কার কথা জানাচ্ছিলেন গৌতমের মা বাসন্তি রানী বর্মন । তিনি বলেন, ৮ শতক জমি ছাড়া আর কিছু নেই। কষ্টের সংসারে বহুবার তার পড়াশোনা বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমি নিজেও অন্যের বাসায় কাজ করি। কিন্ত এসএসসি পাসের পর ছেলের কান্নাকাটির কারণে বাধ্য হয়ে এখনও তার পড়াশোনা চালু রেখেছি। অভাবের সংসারে তার ইচ্ছা পুরণ করতে গিয়ে মাঝে মাঝে রাজমিস্ত্রির সহযোগী হিসেবে কাজ করে গৌতম। সংসার চালানো ও প্রতিমাসে ছেলে মেয়ের পড়ালেখার খরচ যোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। 
গৌতম কুমার বর্মন বলেন, ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে পৃথিবীতে জন্মেছি। তাই পড়াশুনার পাশাপাশি রাজমিস্ত্রির লেবার হয়ে, আবার কখনও অন্যের জমিতে কাজ করে অর্থ উপার্জন করে পরিবারকে সহযোগিতা করি। আমার নিজের এবং ছোট বোনের পড়াশুনার খরচসহ সংসার চালানোই কষ্টকর। তাই নিয়মিত কলেজ যাওয়া হয় না।
গৌতমের বাবা চৈতন্য চন্দ্র বর্মন বলেন, তার ছেলে পড়াশুনা শেষ করে প্রতিষ্ঠিত হতে চায়। কিন্তু ছেলেকে পড়ানোর সামর্থ্য তার নেই। এ নিয়ে বড় দুশ্চিন্তায় আছি। ছেলে মেয়ের পোশাক ও লেখাপড়ার খরচ চালাতে যখন টাকা চায় তখন বুক ফেটে কান্না চলে আসে। ছেলে মেয়ে জন্ম দিয়ে তাদের পড়াশুনার খরচ চালাতে পারছি না। এক হতভাগা বাবা আমি।
গৌতম ছোট বেলা থেকেই পড়াশোনায় খুব মনোযোগী। ২০১৮ সালে ভাতগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসিতে মানবিক বিভাগ থেকে পাস করে।
ভাতগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. সোলায়মান আজিজ বলেন, গৌতম একজন মেধাবী ছাত্র। বলা যায় নিজের চেষ্টায় সে এত দূর এসেছে। গৌতমের মতো অনেক মেধাবী ছাত্রদেরকে কলেজের পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব সহযোগিতা করা হয়, যেন তারা লেখাপড়া চালাতে পারে। সবার সহযোগিতা পেলে গৌতম নিশ্চয়ই জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে।

About parinews

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*