Breaking News
Home / জেলা সংবাদ / সাদুল্লাপুরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ভাঙচুর-লুটপাট ও পায়ের রগ কর্তন

সাদুল্লাপুরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ভাঙচুর-লুটপাট ও পায়ের রগ কর্তন

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধাঃ গাইবান্ধার সাদল্লাপুর উপজেলায় সন্ত্রাসী কায়দায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর-বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় এক ব্যক্তির পায়ের রগ কেটে দিয়ে সরকারি ঘর ও আসবাপত্র ভাঙচুরসহ লুটপাট করার অভিযোগ উঠেছে । এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, সাদুল্লাপুর উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের কিশামত বাগচী গ্রামের শেফালী বেগমের বাসস্থান ও জায়গা জমি না থাকায় তার পিতা গোলজার হোসেন ৫ শতক জমি দান করেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে অসহায় শেফালীকে একটি সরকারি ঘর দেওয়া হয়। এ ঘরে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। এরই একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে পুরান লক্ষীপুর গ্রামের প্রভাবশালী বদিয়াজ্জামান মিয়ার ছেলে মিথুন মিয়া ও মুরাদ মিয়াসহ আরও অনেকে শেফালীর বাড়ির যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেয়। বিষয়টি স্থানীয় ব্যক্তিদের জানানো হলে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে মিথুন মিয়া গংরা। তারা দলবদ্ধভাবে ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শেফালীর বসতী সরকারি ঘরবাড়িতে হামলা চালায়।এতে বাধাঁ দিতে গিয়ে গোলজার হোসেনের পায়ের রগ কেটে দেওয়াসহ তার ছেলে আতিকুর রহমানকে কুপিয়ে যখম করে এবং শেফালী বেগমকে শ্লীলতাহানী ঘটায়। এরপর সরকারি ঘর ও আসবাপত্র ভাঙচুর করে নগদ ৫০ হাজার টাকা লুট করে হামলাকারীরা। মিথুন মিয়া গংদের এমন তাণ্ডবে এলাকাবাসী ছুটে এসে গুরুতর আহত গোলজার হোসেন ও আতিকুর রহমানকে উদ্ধার করে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে গোলজারের অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান স্বজনরা।
স্থানীয়রা জানান, আহত গোলজার হোসেনের স্ত্রী আমবিয়া বেগম একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। তার মেয়ে শেফালীর জায়গা জমি ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছে সরকার। সেই সরকারি ঘরটি ভাঙচুর করাটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা।
ভুক্তভোগি শেফলী বেগম বলেন, আমার থাকার ঘর ছিলো না। স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি পাকাঘর উপহার দিয়েছেন। সেই ঘর-দরজা-জানালাগুলো ভেঙে দিয়েছে মিথুন মিয়া ও তার লোকজন। এ নিয়ে সাদুল্লাপুর থানায় মামলা করা হয়েছে। এর সঠিক বিচার চাই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মিথুন মিয়া ও মুরাদ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাদুল্লাপুর থানার উপপুলিশ পরিদর্শক (এসআই) কনক চন্দ্র বর্মণ জানান, এ বিষয়ে শেফালী বেগম বাদি হয়ে একটি এজাহার দাখিল করেছে। সেটি তদন্তাধীন রয়েছে।

About parinews

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*